ভালোবাসাই সমাধান! পার্ট-২
রাত হয়েছে অনেক। বাসায় ফিরতে হবে। কাফরুলে এসে দেখি শ'খানেক রিক্সা। সচরাচর এরকম দৃশ্য চোখে পরে না। বরং উল্টোটা দেখেই অভ্যাস্ত। কাছাকাছি যেতেই সবাই ঘিরে ধরল "মামা! আসেন" বলে। ভাবলাম আজই সূযোগ বদলা নেওয়ার। ৪০ টাকার ভাড়া বহুবার ৫০/৬০ টাকা দিয়ে বাসায় ফিরেছি। বললাম, ৩০ টাকা যাবা? "এইটা কি কন মামা! ন্যায্য ভাড়া ৪০ টাকা।" অসহায় ভাবে একজন জবাব দিলো। আমি কিছু না বলে অপেক্ষায় ছিলাম টোপটা কে গিলে সেটা দেখার জন্য। "আসেন ভাই" মধ্যবয়স্ক চিকন গরনের এক লোক। নিয়ম ভাঙায় নিজেই অনুতপ্ত, সগতোক্তির মতো করে বলল, " অনেকক্ষণ খেপ মারিনা"। কেউ তাতে জবাব দিলো না। আমি বীর বেশে রিক্সায় উঠলাম। রাস্তা একদম নিঃশব্দ। চমৎকার বাতাস বইছিল। এইসময় লালন না গাইলে পুর্ণতা আসেনা। গলা ছেড়ে গাইতে লাগলাম " সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে?" কিছুক্ষণ পর দেখি রিক্সাওয়ালাও গানে তাল দিচ্ছে। বললাম, কি ভাই গান গাওয়া হয় নাকি? জানালো বাড়ী কুষ্টিয়াতেই, শৈশব, কৈশোর কেটেছে লালনের আখড়াতেই। তারপর পেটের দায়ে ঢাকায়। আমার চাপাচাপিতে গান ধরল "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেম্নে আসে যায়..." সুর কেটেছে , কথাতেও কিছুটা গোলমেলে কিন্তু আবেগটা ছিল ষোল আনা। বাসার কাছাকাছি চলে এসেছি। ভাবলাম এতো সুন্দর সময় কাটলো, লোকটাকে ঠকিয়ে কি লাভ? রিক্সা থেকে নেমে ৫০ টাকার একটা নোট দিয়ে বললাম, রাখেন! ফেরত দিতে হবে না। আমাকে অবাক করে দিয়ে রিক্সাওয়ালা ২০ টাকা আমার হাতে দিয়ে বলল, না ভাই লাগবে না। আপনার কারনে অনেকদিন পর গান গাইলাম। আমি একরকম জোর করেই টাকাটা দিলাম। ১০ টাকা বাচানোয় যে সুখ নিয়ে রিক্সায় উঠেছিলাম, ২০ টাকা দিয়ে তারচেয়ে অনেক বেশি আত্মতৃপ্তি নিয়ে বাসায় ফিরলাম। আর বুঝলাম ভালবাসাই সমাধান।
valo lekha
ReplyDelete