প্রেমই সমাধান!


২০১৬ এর ১৬ই ডিসেম্বর, বিজয় দিবস।চট্রগ্রাম দাবা লীগে খেলার আমন্ত্রন পেয়ে বউ কে নিয়ে যাচ্ছি এয়ারপোর্ট রেলওয়ে ষ্টেশনে। সকাল সারে ৬টায় ট্রেন ছেড়ে যাবে তাই খুব ভোরে অন্ধকার থাকতে থাকতেই বাসা থেকে বের হলাম।রাস্তা একদম জনমানব শূন্য, কিছু ঘরছাড়া লোক ফুটপাতে, ভ্যানে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। আমরা রাস্তা পার হয়ে সিএনজির অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছি।সময় কেটে যাচ্ছে কিন্তু সিএনজির দেখা নাই। এর মধ্যে আবার কিছু লোকের ঘুম ভেঙ্গে গেছে, তারা শূন্য দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।হঠাত করেই আমার ভয় চেপে বসলো।মনে হলো এখানে  যদি কেউ ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আক্রমন করে তাহলে বাঁচানোর কেউ নাই।ঘুমভাঙ্গা মানুষদের তখন আর সাধারণ মানুষ ভাবতে পারছিলাম না।তাদের চেহারায় কেমন যেন  ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসী, মাদকাসক্তর ছায়া দেখতে পেলাম।এদিকে সময়ও বয়ে যাচ্ছে, সময়মত পৌছাতে না পারলে ট্রেনও মিস হবে। সব ভেবে আমি যখন শীতের রাতেও রীতিমত ঘামছিলাম ঠিক তখনি কুয়াশা ভেদ করে দেবদূতের মতো একটা বাস এসে আমার সামনে দাঁড়াল। ১৪/১৫ বছরের এক ছেলে ঘুমজড়ানো চোখে বাস থেকে নেমে বলল, “কই যাবেন?” বললাম “এয়ারপোর্ট”। “উঠেন” বলে নিজেই লাগেজ নিয়ে বাসে উঠে গেলো। আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।বাসে যাত্রী বেশি ছিল না। কিছুক্ষন পর ছেলেটা এসে যখন বলল “মামা, ভাড়াটা লন?” তখন মনে হলো এর চেয়ে মধুর কথা আর হতে পারে না! শীতের এই কুয়াশামাখা ভোর প্রতিদিন যে এতো সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয় তা এই প্রথম উপলব্ধি করলাম। অথচ কিছুক্ষন আগেই প্রকৃতির এই সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত ছিলাম এক অজানা ভয়ের কারনে। বুঝলাম ভয়ই সমস্যা। রাস্তা ফাঁকা ছিল তাই খুব অল্প সময়েই এয়ারপোর্ট স্টেশনে পৌঁছে গেলাম। “ওস্তাদ! ব্রেক মারেন... মহিলা নামবো” বাস থামার পর ছেলেটা নিজেই আমাদের লাগেজটা নামিয়ে দিলো।আমি নেমেই ছেলেটার কাঁধে হাত রেখে বললাম, “অনেক ধন্যবাদ!” ছেলেটা কিছুক্ষন হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। এই ধরনের আচরণ পেয়ে সে অভ্যাস্ত না। তারপর চওড়া এক হাসি দিয়ে বলল, “আইচ্ছা যান!” বাস চলে গেল আর আমিও বুঝলাম প্রেমই সমাধান!           

Comments